নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসি সচিব বলেন, মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের সঙ্গে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬’। ভোটের তারিখ ২০ আগস্ট, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ করা হবে।
ভোটদান পদ্ধতি বিষয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়তাকারী কর্মকর্তারা (স্পিকারসহ ২০ জন) ব্যালট পেপার সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন। সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করে সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনোটিতে ভোট দেবেন।
গণনা ও ফলাফল ঘোষণা বিষয়ে ইসি সচিব জানান, বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। মোট ব্যালট সংখ্যা ৩৪৯টি। গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল সেখানে সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংসদ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত বসার ব্যবস্থা থাকবে।
ইসি সচিব বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটি হচ্ছে মুড়ি-এতে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর ও স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। অন্য অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে এবং পাশে ভোটারকে নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত থাকবেন এবং তাদের জন্য আলাদা আইডি কার্ড থাকবে। নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে নির্বাচন হচ্ছে। তারা তা প্রত্যক্ষ করবেন।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারকে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
কোনো সংসদ সদস্য যদি তার দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দেন, তবে তা ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়বে কি না-জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং নির্বাচনের পদ্ধতিগত বিষয়ের বাইরে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকেই এর উত্তর জেনে নেওয়া ভালো।
\
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
এবার বিএনপি ও জামায়াত জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে পারে। কারণ এ সময়ে একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।