সারাদেশ

ইতিহাস গড়লেন সিইসি নাসির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৭:২৫, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বিভাজন বা বিতর্ক ছাড়াই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৬ জন সংসদ সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি।

 

দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে স্পিকারের পরিবর্তে সিইসি শপথ পড়ানোর দায়িত্ব পালন করলেন। এর আগে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে সে সময় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভাজনের কারণে সকল সদস্যকে তিনি শপথ করাতে পারেননি। এবারের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন; কোনো প্রকার বিরোধিতা ছাড়াই নির্বাচিত সকল সদস্য সিইসির অধীনে শপথ গ্রহণ করেছেন।

 

কেন সিইসি শপথ পড়ালেন?
সাধারণত নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান স্পিকার। তবে সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে বা দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে এই দায়িত্ব প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর বর্তায়।

 

  • শূন্যতা: জুলাই অভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে চলে যান এবং ডেপুটি স্পিকার বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন।

 

  • আইনি প্রক্রিয়া: গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭টি আসনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সিইসিকে শপথ পড়ানোর আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান। গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার শপথ করাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সিইসি এই সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।

 

শপথের দ্বৈত প্রক্রিয়া
এবারের শপথ অনুষ্ঠানে একটি বিশেষত্ব ছিল। ‘জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দুই ধাপে শপথ নিয়েছেন। তারা প্রথমে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং পরবর্তীতে একই অনুষ্ঠানে ‘পরিষদ সদস্য’ (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) হিসেবে শপথগ্রহণ করেন।

 

বিগত কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে কোনো ধরণের বিভাজন ছাড়াই সকল দলের সংসদ সদস্যদের এই অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।