নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি খাতের অলিগার্কিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলার অন্যতম উদাহরণ হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
তিনি বলেন, এটা জ্বালানি খাতের রাজনৈতিক অর্থনীতি তা আমরা জানি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে বিষধর ব্যবস্থা বিগত সরকার রেখে গেছে, সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। এ জন্য ‘এনার্জি মিক্স’ করতে হবে বলে সরকার মনে করে।
রবিবার রাজধানীর বিজয়নগরে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘ডিট্রিবিউটেড রিনিউএবল এনার্জি : দ্য ফিউচার সোলার সলিউশন ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে অর্থ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোন কোন জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো যায়, সেই ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে এটা নিয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ খাতে যে পরিমাণ অর্থায়ন দরকার, তা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোই করতে পারে। এজন্য বাড়তি অর্থায়নের দরকার হচ্ছে না। তবে চাহিদা কি পরিমাণ আছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। তাহলে জোগান বা সরবরাহ কোনো সমস্যা হবে না।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, কোভিড হবে বা মধ্যপ্রাচ্যের সংকট হবে-এটা আমরা জানতাম না। ফলে অনিশ্চয়তাই এখন নিউ নরমাল। এই পরিস্থিতিতে নির্ভরতার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বের হয়ে স্বাবলম্বীর সংস্কৃতির দিকে যেতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানো গেলে আমাদের জ্বালানি আমদানি খাতে সাশ্রয় হবে, আমরা স্বাবলম্বীও হবো।
তিনি আরও বলেন, সেক্ষেত্রে স্বাবলম্বী এবং অধিকারভিত্তিক যাত্রার একটি বড় মাইলফলক হতে পারে গৃহস্থালি পর্যায়ে, অফিসে বা দোকানে, হাসপাতালে, বিদ্যালয়ে সব জায়গায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবস্থা
করা। তবে আমরা বলছি না যে সকল ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করা যাবে। আমরা বলছি ২০৩০ সালের মধ্যে এটাকে ৩০ শতাংশে নিয়ে যেতে হবে এবং ধীরে ধীরে এনার্জি মিক্সকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
ইআরএফ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত এই সেমিনার সঞ্চালনা করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, ইডকলের
মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অর্থায়নসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় দরকার রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের ম্যানেজার আবুল আজাদ, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, ক্লিন’র সিইও হাসান মেহেদী, সোলশেয়ারের ইনোভেশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।