নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউনিয়ন পর্যায়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও সরকারী খাতে কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে যাচ্ছে। আগামী ১লা জুলাই ২০২৬ (বুধবার) থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতি।
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা না পাওয়া এবং স্থায়ী কোনো মজুরি নির্ধারণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা এই চূড়ান্ত আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত দেশের গবাদিপশুর জাত উন্নয়নে তারা নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। আজ দেশে একটি গাভী থেকে ২০ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ পাওয়া যাচ্ছে এবং দেশ মাংসে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এই সাফল্যের সিংহভাগ কৃতিত্ব ইউনিয়ন পর্যায়ের এই এআইটি (কৃত্রিম প্রজনন কর্মী) কর্মীদের, যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বেতন ছাড়াই এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে ৫০০ টাকা এবং ২০১৯ সালে তাদের জন্য ২,০০০ টাকা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে গত ৯ মাসের বকেয়া রেখে সেই ভাতাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ৩ থেকে ৩০ বছর ধরে সেবা দিয়ে আসা এই কর্মীদের জীবন ও জীবিকা এখন চরম বিপন্ন।
এর আগে কর্মরত ৫,২৭২ জন কর্মীকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পূর্বের আন্দোলন থামানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়াটি আইনি জটিলতায় আটকে যায়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, দীর্ঘদিন ধরে বহু আন্দোলন ও আলোচনা করেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। ফলে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, যেকোনো উপায়ে বা পদ্ধতিতে তাদের একটি নির্দিষ্ট মজুরি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত তারা আর সরকারি কাজে ফিরবেন না।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং দেশবাসীর কাছে নিজেদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তারা আশা প্রকাশ করেছেন—দেশের গো-সম্পদ উন্নয়নের ধারা সচল রাখতে এবং সাধারণ জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল মহল দ্রুত এই সংকট নিরসনে এগিয়ে আসবেন।