সারাদেশ

টেকসই শ্রমব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৯:৪১, ০৯ জুন ২০২৬
photo


বাংলাদেশের শ্রমিকদের সংগঠন করার স্বাধীনতা এবং ন্যায্য দাবি-দাওয়া উপস্থাপনের জন্য সম্মিলিত আলোচনায় অংশগ্রহণের অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নারী কর্মসংস্থান হ্রাস, যুব বেকারত্ব বৃদ্ধি এবং অভিবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়গুলো নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি ৩৫ লাখ কর্মশক্তি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ অভিবাসী শ্রমিকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সুরক্ষায় অধিক বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দক্ষতা, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ভিত্তিক একটি বৈশ্বিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।


তিনি ডিজিটাল বৈষম্য ও দক্ষতার ব্যবধান দূর করা, এআই প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ ও দক্ষ অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনোই এমনভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়, যা মানব মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে বা সামাজিক বৈষম্য বাড়িয়ে দেয়-এ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সংহতি ও কার্যকর সহযোগিতা অপরিহার্য।


প্ল্যাটফর্মভিত্তিক অর্থনীতিতে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, স্বীকৃতি ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি ‘প্ল্যাটফর্ম অর্থনীতিতে শোভন কাজ’ বিষয়ক প্রস্তাবিত আইএলও কনভেনশনকে স্বাগত জানান। পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।


অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সম্প্রতি দুটি মৌলিক কনভেনশনসহ আইএলওর তিনটি কনভেনশন অনুমোদন করেছে। তিনি শ্রম আইন সংস্কার, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সংলাপ আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।


সবশেষে তিনি সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকপক্ষের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায্য ও টেকসই কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্বের সকল শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


আন্তর্জাতিক এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে তার বক্তব্য শ্রমিক অধিকার, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রভাব, অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরেছে।