সারাদেশ

কক্সবাজারে ওএমএসের চালে হরিলুট

গরিবের হক যাচ্ছে কালোবাজারে, ডিলারের দোকান সিলগালা
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১১:৪৩, ১৭ মে ২০২৬
photo

কক্সবাজারে সরকারি খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকি মূল্যের চাল ও আটা ওএমএস নীতিমালা-২০১৫ লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যেই কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ডিলার ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এই অবৈধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

 

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, নিম্নআয়ের মানুষের সুবিধার্থে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করার কথা। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও ডিলাররা 'বরাদ্দ শেষ' বা 'আজ মাল কম' বলে তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অথচ পেছনের দরজা দিয়ে রাতের আঁধারে বা ডিলারের নিজস্ব গুদাম থেকে এসব পণ্য চড়া দামে খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওএমএসের সরকারি সিলযুক্ত বস্তা থেকে চাল ও আটা সরিয়ে বিভিন্ন নামী-দামী ব্র্যান্ডের প্লাস্টিক বা চটের বস্তায় ভরা হয়। এরপর সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে সরকার বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি দিলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত হতদরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ।

 

নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি কেন্দ্রে একজন তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ডিলারদের অনৈতিক বাণিজ্যে তাদের নীরব সমর্থনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তদারকি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাসোহারা বা কমিশন পাওয়ায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

 

সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ঝাউতলা মোড়ে ডিলার তপন কান্তি দাসের দোকান সিলগালা করেন জেলা খাদ্য কর্মকর্তা। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ডিলার হাসেম এন্টারপ্রাইজে অনিয়মের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সত্যতা যাচাই শেষে মালামাল জব্দ করে এবং দুজনকে গ্রেফতার করে। তবে অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ হাসান পরবর্তীতে ডিলারের প্রতিনিধির সাথে গোপন আলোচনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের জনরোষের মুখে ফেলেন। এ ঘটনায় পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

ভুক্তভোগী নিম্নআয়ের মানুষেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে তারা চাল পান না, অথচ বাজারে চড়া দামে সরকারি চাল পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জানান, অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আগামী রবিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।