নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রিত জাহাজ চলাচলের বাস্তবতায় ইরানের সঙ্গে নতুন জ্বালানি সমঝোতায় গেছে ইরাক ও পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি ও জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার মধ্যেই এই দুই দেশ তেল ও গ্যাস পরিবহনে তেহরানের সহযোগিতা নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরাক ইরানের সহায়তায় তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলের নিরাপত্তা সমন্বয় করছে, যাতে রপ্তানি ব্যাহত না হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান কাতার থেকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে ইরান অনুমোদিত রুট ব্যবহার করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে যেকোনো সামরিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন এই কৌশলগত জলপথে নিজেদের প্রভাব আরও দৃশ্যমানভাবে ব্যবহার করছে।
ইরাকের জন্য বিষয়টি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির রাষ্ট্রীয় আয়ের বড় অংশ তেল রপ্তানিনির্ভর। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে জ্বালানি ঘাটতি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখা জরুরি হয়ে উঠেছে। এ কারণেই দুই দেশই বাস্তববাদী অবস্থান নিয়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সমঝোতাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামের অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।