সারাদেশ

নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য গাজার চিকিৎসকদের মনোনয়ন

অফিস ডেস্ক
আপডেট: ০২:২৩, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
photo

মঙ্গলবার ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একজন সদস্য মাতিয়াজ নেমেক আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ এবং গাজাভিত্তিক চিকিৎসকদের ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

 

আনাদোলু জানায়, নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির কাছে এই মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার পরই নেমেক মঙ্গলবার তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করেন। এক্স-এ নেমেকের শেয়ার করা এক বিবৃতি অনুসারে, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যসহ ৩৩টি দেশের প্রায় ৩০০ জন যোগ্য প্রস্তাবক এই মনোনয়নে স্বাক্ষর করেছেন।

 

নেমেক বলেন, এই মনোনয়ন ‘সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ রক্ষাকারী ব্যক্তিদের সাহস, প্রচেষ্টা এবং অধ্যবসায়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ’ এবং ‘রাজনৈতিক বিভাজনকে অতিক্রম করে শান্তিতে অবদানের প্রতিনিধিত্ব করে।’

তিনি আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে আলবানিজের কাজের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তিনি তীব্র রাজনৈতিক চাপ এবং ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তার মিশন অব্যাহত রেখেছেন।’

 

তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ আমাদের সকলের জন্য একটি আয়না হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ গণহত্যার প্রতিক্রিয়ায় আমরা যে নীতিগত ভিত্তি তৈরি করেছি, তার প্রতি আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই মনোনয়নের তালিকায় গাজাভিত্তিক চিকিৎসকরাও রয়েছেন—যেমন ডা. হুসাম আবু সাফিয়া ও ডা. সারা আল-সাক্কার।


সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যেও তারা চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন।


নেমেক বলেন, ‘স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এবং মৌলিক চাহিদার তীব্র ঘাটতির মধ্যেও তারা প্রতিদিন জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন। চিকিৎসা নীতিমালা মেনে চলার মাধ্যমে মানবতা, সংহতি দেখিয়েছেন, তারাই এই ধরণের পুরষ্কারের যোগ্য।’

আইনপ্রণেতা স্পষ্ট করে বলেন, এই মনোনয়নকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে প্রচারণা চলছে, তার মূল উদ্দেশ্য হলো, আন্তর্জাতিক সমাজ ও বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের সব পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদাকে সম্মান করার আহ্বান জানানো।


তিনি আরো বলেন, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শত শতবার যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে। এতে অন্তত ৩৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৬৩ জন আহত হয়েছেন।

 

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় হামলায় ইসরায়েল ৭০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া ১ লাখ ৭১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে।

সূত্র : মিডিল ইস্ট মনিটর।