সারাদেশ

রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পে এখনোও জ্বালানি সংকট

রেশনিং ও সরবরাহে ঘাটতিতে ভোগান্তিতে গ্রাহক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৭:১৯, ০৯ মার্চ ২০২৬
photo

বিশ্বজুড়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে গত শুক্রবার থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ শুরু হলেও রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পে চাহিদামাফিক তেল মিলছে না। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেও তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

 

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পাম্পেই তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। কোনো কোনো পাম্পে সকাল থেকেই 'তেল নেই' বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর সংলগ্ন ডি এল ফিলিং স্টেশন ও মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেলের জন্য হাহাকার চলছে।

 

পাম্প দুটির কর্মীরা জানান, রোববার মাত্র একটি করে তেলের গাড়ি এসেছিল যা দ্রুতই শেষ হয়ে গেছে। ডি এল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী বলেন, "আমাদের দৈনিক ৬ গাড়ি তেলের চাহিদা থাকলেও পেয়েছি মাত্র ১ গাড়ি। আজ নতুন গাড়ি না আসা পর্যন্ত বিক্রি বন্ধ।"

 

শুক্রবার ও শনিবার ছুটির কারণে সরবরাহ কম থাকবে—এমনটা মেনে নিলেও সোমবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। টঙ্গী থেকে আসা মো. সগীর নামে এক গ্রাহক জানান, এলাকার কয়েকটি পাম্প ঘুরে না পেয়ে এখানে এসেছেন, কিন্তু এখানেও তেল নেই। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মুকুল নামে আরেকজন জানান, পাম্পগুলো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

 

তবে এই সংকটের মধ্যেও বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনে সরবরাহ স্বাভাবিক দেখা গেছে। সেখানে তেলের জন্য আসা যানবাহনের লাইন জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে।

 

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির (একাংশ) সভাপতি সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম এই পরিস্থিতির জন্য ডিপো থেকে কম সরবরাহ করাকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, ৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গাড়িগুলো মাত্র ১ হাজার লিটার করে তেল পাচ্ছে। এছাড়া দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় পেট্রোল-অকটেনের উপজাত হিসেবে পাওয়া কনডেনসেট উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমদানিকৃত তেল জাহাজ থেকে খালাস হয়ে পাম্পে পৌঁছাতে ৭ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া 'প্যানিক বায়িং' বা আতঙ্কিত হয়ে বেশি তেল কেনার প্রবণতা কমাতে তেলের দাম কমানোর পরামর্শ দেন তিনি।

 

সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। রেশনিং পদ্ধতির কারণে কোনো কোনো এলাকায় তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নতুন শিপমেন্ট দেশে পৌঁছেছে এবং খুব দ্রুতই সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে।