নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের ডামাডোল শুরু হয়েছে। নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য এবার মোট ২৮৭ জন প্রার্থীকে প্রাথমিক তালিকায় রাখা হয়েছে। এই তালিকায় যেমন প্রভাবশালী বিশ্বনেতারা রয়েছেন, তেমনি রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নরওয়েজীয় নোবেল কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হার্পভিকেনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এবারের মনোনয়ন তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ইসরায়েল, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার নেতারা ট্রাম্পকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছেন বলে জানা গেছে। ৩১ জানুয়ারির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই প্রস্তাব জমা পড়ায় সেটিকে বৈধ হিসেবে গণ্য করছে কমিটি। তবে নোবেল কমিটির কঠোর গোপনীয়তা নীতির কারণে আগামী ৫০ বছরের আগে এই মনোনয়নের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার সুযোগ নেই।
এবারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় আরও বেশ কিছু আলোচিত নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ,ইউলিয়া নাভালনায়া:রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী , পোপ লিও: বিশ্বশান্তিতে তার অবদানের জন্য। ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস: সুদানের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। লিসা মারকাওস্কি ও আজা কেমনিটজ: আর্কটিক অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য মনোনীত হয়েছেন এই দুই নারী আইনপ্রণেতা।
এদিকে ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ইরানি মানবাধিকারকর্মী নার্গিস মোহাম্মাদির শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নোবেল কমিটি। বর্তমানে তিনি ইরানি কারাগারে বন্দি এবং সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার জীবন সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। কমিটি তাকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
নোবেল কমিটির মতে, বর্তমানের সংঘাতপূর্ণ বিশ্ব পরিস্থিতিতে শান্তি পুরস্কারের গুরুত্ব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এবারের শান্তি পুরস্কারের জন্য ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংস্থা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ অক্টোবর বহুল প্রতীক্ষিত এই পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর প্রথা অনুযায়ী আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি হস্তান্তর করা হবে।