সারাদেশ

'শত্রুর হার্ট অ্যাটাক হওয়ার মতো' অস্ত্র নিয়ে আসছে ইরান

কঠোর হুঁশিয়ারি নৌবাহিনীর কমান্ডারের
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৪:৪৮, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
photo

খুব শিগগিরই এমন একটি অস্ত্র নিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইরান, যা তাদের মনে গভীর ভীতি তৈরি করবে। এমনকি এই অস্ত্র দেখে শত্রুদের হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি।

বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

 

অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ হয়তো ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিহীন আগ্রাসন চালিয়ে তারা খুব সহজেই নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। কিন্তু তাদের সেই ভুল ধারণা এখন সামরিক একাডেমিগুলোতে হাস্যরসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

 

আগ্রাসনের সময় নৌবাহিনীর প্রতিশোধমূলক অভিযানের কথা উল্লেখ করে কমান্ডার জানান, মার্কিন বিমানবাহী রণতরি আব্রাহাম লিংকনের ওপর অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। এই হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওই রণতরি থেকে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নসহ যেকোনো ধরনের আকাশ অভিযান পরিচালনা করতে পারেনি।

 

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগ্রাসনের জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন সংবেদনশীল মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ১০০টি সফল পাল্টা আঘাত হেনেছে।

 

কমান্ডার ইরানি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের যুদ্ধের জন্য নৌ ইউনিটভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে ইরানের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। অতিরিক্ত ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করেও তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি এবং বর্তমানে তারা অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে।

 

তিনি জানান, আরব সাগরের দিক থেকেও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শত্রুপক্ষ যদি আরও কাছাকাছি এগিয়ে আসে, তবে ইরান কোনো রকম বিলম্ব ছাড়াই কঠোর অপারেশনাল পদক্ষেপ নেবে।

 

কিছু ইরানি জাহাজ অবৈধভাবে আটকে রাখার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই কমান্ডার। মার্কিন বাহিনীর এই কাজকে শুধু জলদস্যুতা নয়, বরং জিম্মিদশা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি বনে, সোমালিয়ার জলদস্যুরা দারিদ্র্যের কারণে এমন কাজ করত, কিন্তু আমেরিকানরা তাদের চেয়েও খারাপ, কারণ তারা এর সঙ্গে নৃশংসতাও যুক্ত করেছে।

 

সবশেষে কমান্ডার শাহরাম ইরানি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, দেশের শহীদদের রক্তের বদলা নিতে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে শপথবদ্ধ। শত্রুদের এমন আঘাত দেওয়া হবে যা তাদের গভীর অনুশোচনায় ফেলবে।