সারাদেশ

নতুন নেতৃত্বে ইসরাইলে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১১:৫৯, ০৯ মার্চ ২০২৬
photo

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সরাসরি নির্দেশনায় সোমবার প্রথমবারের মতো ইসরাইলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। সাবেক নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই এই নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপ নিলেন। এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের সংঘাত এখন এক অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ভয়াবহ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

 

মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় আলি খামেনির প্রয়াণের পর ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব পরবর্তী ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশটির শিয়া ধর্মগুরুরা জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে এই পদে আসীন করার বিষয়টি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে গুরুত্বের সাথে প্রচার করা হয়। ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) এক বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয় যে, প্রতিনিধিদের ভোটের ভিত্তিতেই তাকে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

পরিষদ তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের 'নৃশংস আগ্রাসন' এবং ইসরাইলের বৈরী আচরণ সত্ত্বেও তারা নতুন নেতা নির্বাচনে এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করেনি।

 

ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে 'আপনার আদেশে, সাইয়্যেদ মোজতবা'—এই স্লোগানটি লেখা রয়েছে। আজ সোমবার ভোরে কাতারে অবস্থিত প্রধান মার্কিন বিমান ঘাঁটির কাছাকাছি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে, যা এই উত্তেজনারই বহিঃপ্রকাশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

উল্লেখ্য যে, এই যুদ্ধাবস্থা শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী দেশজুড়ে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সেই অভিযানে এক হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এমন এক অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অস্থিরতার মধ্যেই মোজতবা খামেনি তার পিতার মতোই কট্টরপন্থি অবস্থান নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করলেন।

 

ইরানের এই নতুন নেতৃত্বকে শুরুতেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মোজতবা খামেনিকে 'অযোগ্য' হিসেবে অভিহিত করেছেন। রবিবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের নতুন নেতার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন থাকা উচিত ছিল। অন্যথায়, মোজতবা খামেনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

 

অন্যদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী সরাসরি হুমকি দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা নতুন ইরানি নেতাকে লক্ষ্যবস্তু করতে কোনো প্রকার দ্বিধা করবে না।

 

মোজতবা খামেনির এই আক্রমণাত্মক শুরু এবং পশ্চিমা বিশ্বের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।