সারাদেশ

পাকিস্তানে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, কূটনৈতিক টানাপোড়েনে নারাজ ইরান

দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, তবে আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ তেহরানের
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:৪৬, ২০ এপ্রিল ২০২৬
photo

কামাল পাশা  

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক  

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, এই সফরের উদ্দেশ্য শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য পুনর্বিন্যাস করা।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, বিশেষ করে আফগানিস্তান-সংক্রান্ত ইস্যুতে। ফলে প্রতিনিধি দলের আলোচনায় সন্ত্রাসবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা, এবং গোয়েন্দা সহযোগিতা প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলাপ হতে পারে।

এই সফরের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো চীন-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের সম্পর্ককে আরও গভীর করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন চাইছে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করতে।

তবে এই উদ্যোগে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। ইরানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত না করলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান-এর সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে, অন্যদিকে ইরানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে টানাপোড়েন বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে। একই সঙ্গে ভারত ও চীন পরিস্থিতির দিকে ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে, কারণ এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।