সারাদেশ

হামের টিকা না দেওয়া বিগত সরকারের ক্ষমাহীন অপরাধ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০১:২১, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
photo

বিগত দুই সরকারের আমলে শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ার ঘটনাকে ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ এবং ‘ক্ষমাহীন অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জরুরি ভিত্তিতে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর ফলে পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে যারা সন্তান হারিয়েছেন, সেইসব পরিবারের প্রতি প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে আন্তরিক দুঃখ ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে উন্নত ল্যাব ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এই বৈষম্য দূর করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সেবার এই বিকেন্দ্রীকরণ এক দিনে সম্ভব না হলেও সরকার পরিকল্পিতভাবে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের অসুস্থতায় চিকিৎসকরাই হলেন পরম বন্ধু। ওষুধের চেয়েও একজন চিকিৎসকের সদয় ব্যবহার ও সুপরামর্শ রোগীর সুস্থতায় বড় ভূমিকা রাখে। তাই পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক গুণাবলি অর্জনের জন্য তিনি চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

সরকারের স্বাস্থ্যনীতির মূল ভিত্তি 'প্রতিরোধই প্রতিকারের চেয়ে উত্তম' উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন ।

 

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার।হেলথ কেয়ারার নিয়োগ: তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

 

উন্নত বিশ্বের আদলে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দ্রুতই চালু হবে 'সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড', যার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

 

চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকাকে মানবিক ও আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত করার নির্দেশ দেন।

 

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।