সারাদেশ

স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন

১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৩:৪৭, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
photo

ইসলামিক টিভি ডেস্ক: দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করতে দ্রুত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী কর্মী।

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, শহর এবং গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্য কমিয়ে আনতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ এলাকায় মানসম্মত চিকিৎসা পায়, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

 

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিএনপি সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বাজেটের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এছাড়া চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নে কিছু নতুন পদক্ষেপের কথা জানান তিনি ।

 

সবার জন্য সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল ডাটাবেজ বা ই-হেলথ কার্ড চালু করা হবে। ধাপে ধাপে সারা দেশে স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে। প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।

 

প্রধানমন্ত্রী দেশের চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের সেবা নিশ্চিত করতে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। সরকার চিকিৎসকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং দ্রুত এর সমাধান করা হবে। পাশাপাশি পেশাগত অন্যান্য সমস্যাগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান করার আশ্বাস দেন তিনি।

 

বিগত সরকারগুলোর টিকাদান কর্মসূচির (বিশেষ করে হামের টিকা) ব্যর্থতাকে ‘জীবনবিনাশী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ভর্তুকি বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজন মেটাতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হয়েছে সরকারকে।

 

স্বাস্থ্যখাতের এই আমূল পরিবর্তন এবং নতুন জনবল নিয়োগের এই সিদ্ধান্ত তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।