সারাদেশ

জনদুর্ভোগ এড়াতে তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:৫৯, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
photo

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দেশে তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি তেল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার এখনো দাম বাড়ায়নি। জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার এই খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে।

 

দেশ গড়ার কাজে প্রতিহিংসা ও অযথা বিতর্ক পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।" তিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ওপর জোর দেন। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও ইতিহাসের কাছে কাউকেই ক্ষমা পেতে হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

 

দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সক্রিয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দেশবাসীকে অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

 

এ বছর মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, চিকিৎসা, সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

 

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এই পদক গ্রহণ করেন।

 

মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মুক্তিযুদ্ধ), ড. আশরাফ সিদ্দিকী (সাহিত্য), ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী (সমাজসেবা), বশির আহমেদ (সংস্কৃতি) এবং কাজী ফজলুর রহমান (জনপ্রশাসন)। তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন।

 

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পুরস্কার: অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম (বিজ্ঞান-প্রযুক্তি), হানিফ সংকেত (সংস্কৃতি), জোবেরা রহমান লিনু (ক্রীড়া), সাইদুল হক (সমাজসেবা), মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া (গবেষণা ও প্রশিক্ষণ) এবং মুকিত মজুমদার বাবু (পরিবেশ সংরক্ষণ)।

 

এ বছর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ,ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (মুক্তিযুদ্ধ) ,ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (চিকিৎসাবিদ্যা) ,পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফ (পল্লী উন্নয়ন) ,এসওএস শিশু পল্লী (জনসেবা) গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (জনসেবা)।

 

পুরস্কার প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং দেশের কল্যাণে তাদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।