সারাদেশ

আবু সাঈদ হত্যা মামলা

মৃত্যুদণ্ড সমাধান নয় বলে জানাল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৮:৫৪, ১০ এপ্রিল ২০২৬
photo

ইসলামিক টিভি ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে সাবেক দুই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে কেন্দ্র করে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। লন্ডনভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি মনে করে, অপরাধীদের জবাবদিহি জরুরি হলেও মৃত্যুদণ্ড কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

 

শুক্রবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক গবেষক রিহাব মাহামুর বলেন, আবু সাঈদসহ জুলাই আন্দোলনে পুলিশের সহিংসতার শিকার প্রতিটি পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, আধুনিক কোনো আদালতেই মৃত্যুদণ্ডের স্থান নেই। একে তিনি ‘চূড়ান্ত নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর দণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

 

সংস্থাটির মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ক্রমাগত মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার করায় বাংলাদেশে টেকসই জাতীয় ঐক্যের পথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এর আগেও সংস্থাটি আইসিটির বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারকে মৃত্যুদণ্ড পুরোপুরি বাতিলের লক্ষ্য নিয়ে এর কার্যকারিতা স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

 

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত দুই পুলিশ সদস্য বর্তমানে কারাগারে আছেন।

 

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের প্রতিবেদনে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসেই তারা আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তা বাহিনীর বেআইনি অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ যাচাই করেছিল। সংস্থাটি সব সময়ই সব পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের মতে, এই দণ্ড মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রে বর্ণিত ‘জীবনের অধিকার’ সরাসরি লঙ্ঘন করে।