সারাদেশ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে

খরচ কমাতে এবং স্বচ্ছ নিয়োগে দুই দেশের ঐতিহাসিক ঐকমত্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:১৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬
photo

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

 

একটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এবারের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনার ওপর।

 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী রমনন রামকৃষ্ণন।

 

সফরকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। সভার শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁকে সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

 

যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, মালয়েশিয়া সরকার কর্মী নিয়োগে একটি প্রযুক্তি-নির্ভর ও এআই-ভিত্তিক (Artificial Intelligence) ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ,মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের দৌরাত্ম্য কমানো , অভিবাসন খরচ কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। আইএলও (ILO) নীতিমালা অনুযায়ী নিয়োগকর্তার মাধ্যমে শতভাগ খরচ বহন নিশ্চিত করা।

 

বাংলাদেশ এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বৈঠকে মানব পাচার রোধ এবং শ্রমিকদের শোষণ বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। অনিয়মিত কর্মীদের সমস্যা সমাধান এবং কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের বিষয়েও দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতার কথা জানিয়েছে। এছাড়া ঝুলে থাকা বা আটকে পড়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

শ্রমবাজারের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। জনগণের সাথে জনগণের সম্পর্ক জোরদারে শিক্ষক বিনিময় এবং শিক্ষা খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

 

বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে এই বৈঠকটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।