সারাদেশ

আগামী অর্থবছর থেকেই শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:২৮, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
photo

আগামী অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, স্বাস্থ্য খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ হলো দুর্নীতি এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব।

 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে প্রশাসন, চিকিৎসক-নার্স এবং ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান—এই তিন পক্ষকে অবশ্যই সৎ মানসিকতা নিয়ে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন করেও বাজারজাত করার অনুমতি পেয়ে যাচ্ছে। ওষুধের কার্যকারিতার জন্য যেখানে ৭০ শতাংশ উপাদান থাকা আবশ্যক, সেখানে এর চেয়ে কম থাকা সত্ত্বেও ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, ভালো মানের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।

 

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম নিয়ে মন্ত্রী কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সরকারি বড় কেনাকাটায় দুর্নীতি এখন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। টেন্ডারের শর্তগুলো এমনভাবে সাজানো হয় যাতে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পায়। এভাবে আমরা নিজেরাই দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বে হামের টিকার অনেকগুলো ভ্যারিয়েন্ট থাকলেও বাংলাদেশে নির্দিষ্ট একটির কথা উল্লেখ করা হয়, যাতে বিশেষ কোনো গোষ্ঠী লাভবান হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

মশা নিধনে অনিয়মের উদাহরণ দিতে গিয়ে নিজের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মশা মারার ওষুধে সঠিক অনুপাত বজায় রাখা হয় না; বরং অল্প ওষুধে বেশি কেরোসিন মেশানো হয়। এমনকি সঠিক অনুপাতে ওষুধ ছিিটানোর জন্য তাকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।

 

সরকারি হাসপাতালের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোগীদের খাবারে যদি তেলাপোকা পাওয়া যায়, তবে তারা সুস্থ হওয়ার বদলে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে হকারদের অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি এবং চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়গুলোও তিনি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এই সব অনিয়ম দূর করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই তার মূল লক্ষ্য।