সারাদেশ

সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষার পরিকল্পনা: বরিশালে শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:২৩, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
photo

ইসলামিক টিভি ডেস্ক: সারাদেশে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বৈষম্য দূর করতে আগামীতে অভিন্ন বা একক প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণের পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশাল আয়োজিত এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার উন্নয়নকে দেশের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বোর্ডভিত্তিক প্রশ্নের মানের ভিন্নতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হয়। অভিন্ন প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হলে এই সমস্যা দূর হবে। এছাড়া পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন তিনি। যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা নেই, তাদের সিসি ক্যামেরার ব্যয় মন্ত্রণালয় বহন করবে। বিশেষ করে এমসিকিউ পরীক্ষার পুরো সময়ের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেন তিনি।

 

সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের কল্যাণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাশের হার শূন্য হলেও এবার এমপিও বাতিল করা হবে না। তবে এই সুযোগ শুধুমাত্র এবারের জন্যই কার্যকর থাকবে। আধুনিক শিক্ষার প্রসারে সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী আগামীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘উপাসনালায়’ এবং কাজের ক্ষেত্রকে ‘সদকায়ে জারিয়াহ’ হিসেবে অভিহিত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলেই বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারবে। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মেধা ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, পরাজিত সরকার শিক্ষক কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছে। এই বিপুল অর্থ চুরির কারণেই বর্তমান শিক্ষকরা তাদের নায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) অনিয়মের বিষয়ে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

আগামী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা নকলমুক্ত এবং সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই মূলত এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক প্রতিনিধিরা মন্ত্রীর প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলোর প্রতি ইতিবাচক সায় প্রদান করেন।