নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য মানসম্মত ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া এবং দেশব্যাপী ধাপে ধাপে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নিয়োগ পাবেন নারী।
আগামীকাল ৭ এপ্রিল ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় মানুষ, পশুপাখি ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, মানুষের সুস্থতা কেবল একা সম্ভব নয়, এটি চারপাশের পরিবেশ ও প্রাণিকূলের সুস্বাস্থ্যের ওপরও নির্ভরশীল। এই ‘ওয়ান হেলথ’ বা ‘এক স্বাস্থ্য’ ধারণা বাস্তবায়নে চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞানকে সমন্বিত করে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি।
প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষের কাছে বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML), ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR)-এর মতো আধুনিক উদ্ভাবনগুলোকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিশ্বাস করে ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’। জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য করতে সরকার ই-হেলথ কার্ড ,স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা চালু ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ এবং আইন প্রণয়ন এর ব্যবস্থা করা ।
তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠন সম্ভব হবে। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন এবং দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।