নিজস্ব প্রতিবেদক
ইরানে গত জানুয়ারিতে সংঘটিত বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, এসব ঘটনার পেছনে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ-এর কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।
ইরানের সরকারি মহল শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, বিক্ষোভগুলো ছিল বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে দেশের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মোসাদ-এর নাম বারবার উঠে আসে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষই বিক্ষোভের মূল কারণ। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব, এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা জনগণের ক্ষোভকে বাড়িয়ে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় রূপ নেয়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরানে এর আগেও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন কার্যক্রমের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরাসরি কোনো বিক্ষোভ পরিচালনার ক্ষেত্রে মোসাদ-এর সম্পৃক্ততার নির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা রয়েছে। এই উত্তেজনার কারণে যেকোনো অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে সহজেই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
সব মিলিয়ে, ইরানের জানুয়ারির বিক্ষোভ ও হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা দায়ী—তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এই বিতর্ক মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।