নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট যখন ক্রমেই একীভূত হচ্ছে, তখন তার বিপরীত পথে হাঁটছে রাশিয়া। দেশটি ধীরে ধীরে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র বা ‘সার্বভৌম ইন্টারনেট’ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে আংশিক বা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হতে পারে।
রাশিয়ার এই উদ্যোগকে সাধারণভাবে “রুনেট” (Runet) নামে অভিহিত করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—দেশের ভেতরে ইন্টারনেট অবকাঠামোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, যাতে বাইরের কোনো চাপ বা সাইবার আক্রমণের সময়ও দেশটির নেটওয়ার্ক সচল থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে প্রধান কারণগুলোর একটি হলো জাতীয় নিরাপত্তা। রাশিয়া মনে করে, বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল থাকলে বিদেশি শক্তির মাধ্যমে সাইবার হামলা বা তথ্য প্রবাহে হস্তক্ষেপের ঝুঁকি থাকে। তাই তারা নিজেদের ডেটা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে দেশের ভেতরে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
এছাড়া রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একটি ‘স্বাধীন ইন্টারনেট’ থাকলে সরকার সহজেই তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লক করতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
পাশাপাশি, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের উত্তেজনাও এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর পর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়া আরও বেশি স্বনির্ভর ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার দিকে ঝুঁকেছে।
তবে এই পরিকল্পনার সমালোচনাও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থায় উদ্ভাবন ও তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্যবসা, শিক্ষা এবং গবেষণায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাশিয়া-এর এই পদক্ষেপ শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে একাধিক অংশে বিভক্ত করার সম্ভাবনাও তৈরি করছে, যা বিশ্বব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।