সারাদেশ

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে চাপে পাকিস্তান

সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপে দোদুল্যমান পাকিস্তান; ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হয়ে উঠছে
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৫:৫২, ৩০ মার্চ ২০২৬
photo

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে পাকিস্তান-এর ওপর। কৌশলগত অবস্থান, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং আঞ্চলিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে দেশটি এখন বহুমুখী চাপে পড়েছে।

কূটনৈতিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ

পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করেছে। একই সময়ে মুসলিম বিশ্বে সংহতির প্রশ্নে ইসরায়েলের বিরোধিতাও রয়েছে।

এই তিন শক্তির সংঘাতে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা ইসলামাবাদের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একদিকে ওয়াশিংটনের চাপ, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সীমান্ত ও জ্বালানি সহযোগিতা—দুই দিক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে

যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর এই দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এমনিতেই সংকটাপন্ন।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ অবস্থানে থাকলে পাকিস্তানের মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং শিল্পখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

নিরাপত্তা ও সীমান্ত ঝুঁকি

ইরান–পাকিস্তান সীমান্ত অঞ্চলে আগে থেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সংঘাত তীব্র হলে সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে।

একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো পাকিস্তানি শ্রমিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে প্রবাসী আয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

সামরিক ও কৌশলগত চাপ

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের ওপরও কৌশলগত সহযোগিতার চাপ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ইরান চাইবে, পাকিস্তান যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে সরাসরি সহযোগিতা না করে। ফলে দুই পরাশক্তির মাঝখানে পড়েছে ইসলামাবাদ।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

এই সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে চীন-এর সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

চীন ইরানের বড় অর্থনৈতিক অংশীদার হওয়ায়, পাকিস্তানের অবস্থান নির্ধারণে বেইজিংয়ের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সামনে অনিশ্চিত পথ

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—কীভাবে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পাকিস্তানের অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক অবস্থান—সব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।