সারাদেশ

ইরানের তেল দখলে আগ্রহ ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন—ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই অগ্রাধিকার; খারগ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনা, তেলের বাজারে অস্থিরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:২২, ৩০ মার্চ ২০২৬
photo

ইরানের তেলশিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে তাঁর ‘অগ্রাধিকার হবে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া’।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে দেওয়া এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ট্রাম্প জানান, ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা তাঁর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি ইরানের পরিস্থিতির সঙ্গে ভেনেজুয়েলা-র উদাহরণ টেনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে দেশটির তেলখাতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

তেলের বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে। মাত্র এক মাসে দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চের কাছাকাছি।

খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ করতে হলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করা প্রয়োজন। ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপ থেকেই পরিচালিত হয়।

তবে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, উচ্চ ব্যয় এবং সেনা হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে।

সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন ইতোমধ্যে প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এর মধ্যে হাজার হাজার মেরিন সেনা এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন-এর সদস্যরাও রয়েছেন।

গত কয়েক দিনে কয়েক হাজার সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন এবং আরও সেনা পথে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংঘাত আরও বিস্তৃত

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে অন্যান্য দেশেও পড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরব-এর একটি বিমানঘাঁটিতে হামলায় ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এছাড়া হুতি বিদ্রোহী-রা ইসরায়েলের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চলছে

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে। তিনি ইরানকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছেন একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য।

চুক্তি না হলে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব

বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

যদিও ট্রাম্প ইরানের তেল দখলের হুমকি দিয়েছেন, একইসঙ্গে তিনি দ্রুত একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।

অন্যদিকে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে মোজতবা খামেনি-র মৃত্যু বা আহত হওয়ার বিষয়ে তেহরান বলছে, তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় এক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।