নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এরই অংশ হিসেবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে নতুন করে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে জাহাজের শিডিউল বিপর্যয় ঘটায় সম্প্রতি ডিজেল আমদানিতে চাপের মুখে পড়ে বিপিসি। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলতি মাসে ১৭টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৯টি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে। এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনকে মূল বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নতুন চালানের জ্বালানি তেল আসা শুরু হয়েছে, যা আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ খালাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের কৃষি সেচ, সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন কৃষি মৌসুমকে সামনে রেখে সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। তিনি জানান, বিকল্প উৎসগুলো সচল থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় থেকে সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ডিজেল পৌঁছায়। ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের কথা থাকলেও বর্তমানে বিশেষ পরিস্থিতিতে আমদানির পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। সমুদ্রপথের তুলনায় পাইপলাইনে পরিবহন খরচও তুলনামূলক কম; প্রতি ব্যারেলে খরচ পড়ছে প্রায় ৫.৫ ডলার। তবে দেশের অভ্যন্তরে মজুত সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় চাহিদার তুলনায় একবারে বেশি পরিমাণ তেল আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিপিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই চাহিদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন। যার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয় এবং বাকি অংশ অভ্যন্তরীণভাবে অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
সার্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে পাইপলাইনের মতো বিকল্প ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর, তবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে দেশের তেল সংরক্ষণ ও মজুত সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি।