সারাদেশ

বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গড়তে জাতিসংঘে বাংলাদেশের জোরালো আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:৩৮, ২৪ মার্চ ২০২৬
photo

জাতিগত বৈষম্য ও সব ধরনের বর্ণবাদ নির্মূলে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার (২৩ মার্চ) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘আন্তর্জাতিক বর্ণবাদ নির্মূল দিবস’উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ স্মারক সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই আহ্বান জানান। তিনি মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে এবং সাম্য প্রতিষ্ঠায় বিশ্বব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বর্ণবাদ ও জাতিগত বৈষম্য নিরসনে আন্তর্জাতিক সকল কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাক্ষরের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্ণবাদমুক্ত বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার দীর্ঘদিনের এবং অটুট। বাংলাদেশের সংবিধানেও মানবাধিকার, সমতা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে যে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রয়েছে, ড. রহমান তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন।

 

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান মানবিক সংকটের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন ও গাজায় বর্তমানে যে ধরনের বর্ণবাদমূলক নিপীড়ন চলছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্যগুলো অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।

 

বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে অভিবাসী শ্রমিকদের বঞ্চনা ও শোষণের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। ড. রহমান জানান, অনেক অভিবাসী শ্রমিক এখনো ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা জাতিসংঘের মূল আদর্শের সাথে সাংঘর্ষিক। এই ধরনের অন্যায় ও বৈষম্য প্রতিরোধে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।

 

একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ইন্টারনেটে বা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধ ,বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে সংলাপ ও বিনিময় জোরদার করা বিষয়ে জোর দিয়েছেন।

 

পরিশেষে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সংসদীয় কমিটি।