সারাদেশ

পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি, সরবরাহ বাড়ালেও কাটছে না সংকট

জ্বালানি তেলের রেকর্ড চাহিদা
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:৫৩, ২১ মার্চ ২০২৬
photo

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ঢাকার পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকার রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নিয়ে সরবরাহ বৃদ্ধি করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক বা 'প্যানিক বায়িং'-এর কারণে তেল পাওয়ামাত্রই তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।

 

সরকারি সংস্থা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর অধীনে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানি সারাদেশে প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহ করে থাকে। গত রোববার বিপিসি এক আদেশে ১৫ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত তেল বিক্রির একটি সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৬ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত গত বছরের তুলনায় ডিজেল ১০ শতাংশ এবং পেট্রল ও অকটেন ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত সরবরাহ করা হবে।

 

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যা মূলত কৃষি, শিল্প ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত হয়। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা ১২ হাজার টন থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গ্রাহকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ১ থেকে ৪ মার্চের মধ্যে দৈনিক চাহিদা ২৫ হাজার টনে গিয়ে ঠেকে। পরবর্তীতে সরবরাহ কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও বর্তমানে রেশনিং তুলে নেওয়ার পর ফের বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে।

 

অতিরিক্ত চাহিদার চাপে জ্বালানি তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) দ্রুত তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থির মূল্য, জাহাজভাড়া বৃদ্ধি এবং বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন সরবরাহকারী পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

 

ফিলিং স্টেশন মালিকদের মতে, টানা কয়েকদিন রেশনিং থাকায় বাজারে একটি কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা এখন উপচে পড়া চাহিদাতে রূপ নিয়েছে। ঢাকার বাইরের ডিস্ট্রিবিউটররা পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় কৃষকেরাও এখন সেচের তেলের জন্য সরাসরি ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় করছেন।

 

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শুরু হলেও রাজধানীর আসাদ গেট, বিজয় সরণি, মতিঝিল ও মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে স্বস্তি ফেরেনি। অনেক স্টেশনে এখনো নিজস্ব পদ্ধতিতে রেশনিং করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। রাজারবাগের মতো কিছু এলাকায় মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না। আবার কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় দুপুরের মধ্যেই পাম্প বন্ধ করে দিতে দেখা গেছে।

 

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জ্বালানিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ম তামিম জানিয়েছেন, রেশনিং তুলে নেওয়ার পরও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরেনি। ভীতি থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা (প্যানিক বায়িং) বন্ধ করতে প্রয়োজনে আবারও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ে এখনই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।