সারাদেশ

গণপরিবহণ সংকটে ট্রাক-পিকআপে বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ

ঈদযাত্রা
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:২৮, ১৮ মার্চ ২০২৬
photo

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও তীব্র গণপরিবহণ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো সাধারণ মানুষ। বাসে জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেককে খোলা ট্রাক ও পিকআপে চড়ে গন্তব্যে রওনা হতে দেখা গেছে।

 

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করে। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সেতুর উভয় পাশে মোট ১৮টি টোল বুথ সচল রাখা হয়েছে।

 

সরেজমিনে টাঙ্গাইলের নগরজালফৈ, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকে কাঙ্ক্ষিত বাস পাচ্ছেন না। টাঙ্গাইলে কর্মরত বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম জানান, এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসে উঠতে পারেননি। ভ্যাপসা গরম আর ধুলাবালিতে শিশুদের নিয়ে যাত্রীদের নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে।

 

যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকে পুঁজি করে পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করছেন। সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী রুমা বেগম বলেন, “স্বাভাবিক সময়ে টাঙ্গাইল থেকে সিরাজগঞ্জের ভাড়া ১০০ টাকা হলেও এখন ৩০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। গরমে আমাদের কষ্ট হচ্ছে, এই অবস্থায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

 

একই চিত্র দেখা গেছে বাসের অভ্যন্তরেও। বগুড়াগামী মাদ্রাসার ছাত্র মো. হুমায়রা জানান, বাসে তিল ধারণের জায়গা নেই। সিট না পেয়ে অনেকে ঢাকা থেকে আসা খোলা ট্রাকে চড়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

 

মহাসড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, যানবাহনের চাপ থাকলেও কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সেতুর ওপর দুটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যান চলাচল বিঘ্নিত না হয়।