সারাদেশ

স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ইঙ্গিত শিক্ষামন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৫:১৬, ১৫ মার্চ ২০২৬
photo

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বর্তমানের লটারি ভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ এবং নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

 

আজ রোববার সংসদ অধিবেশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বিগত সরকারের চালু করা লটারি সিস্টেমে শিক্ষার্থী ভর্তি পদ্ধতিটি তাঁর কাছে খুব একটা যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির প্রক্রিয়া কেমন হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সবার মতামত ও মতবিনিময়ের মাধ্যমেই ভর্তির নতুন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

 

সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের একটি বড় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সরকার। তবে বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও সনদ সংক্রান্ত কিছু আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা বিদ্যমান রয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দ্রুতই এসব সমস্যা সমাধান করে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় শিক্ষা বলতে কেবল ইসলাম শিক্ষা নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে প্রাধান্য দিয়েই এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সচল রয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিদ্যমান এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার এখনই ঢালাওভাবে কোনো সিদ্ধান্তে যাবে না; বরং বাস্তব প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং গুণগত মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে অধিবেশনে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।