সারাদেশ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৪:২৫, ১৩ মার্চ ২০২৬
photo

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ প্রিয়জনদের সাথে ভাগ করে নিতে রাজধানী ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। মূলত ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ার পর যানজট ও অতিরিক্ত ভিড়ের বিড়ম্বনা এড়াতেই অনেকে আগেভাগে পরিবার-পরিজনকে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

 

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড, মৌচাক, শিমরাইল মোড় ও কাঁচপুর এলাকার বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রীদের উপস্থিতি অন্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীদের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো। যানজট ও পথের ক্লান্তি থেকে বাঁচাতে পরিবারের সদস্যদের আগেই বিদায় দিচ্ছেন কর্মজীবী পুরুষরা।

 

সাইনবোর্ডে বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী রাজু আহমেদ জানান, ঈদের ছুটি শুরু হলে গাড়ির সংকট ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই ভোগান্তি থেকে বাঁচতেই তিনি আগেই পরিবারকে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছেন। নিজে পরে কোনো এক সময় সুবিধামতো গ্রামে ফিরবেন।

 

একই সুর শোনা গেল ব্যাংক কর্মকর্তা মেহেদী হাসান সোহাগ ও ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়ার কণ্ঠেও। তারা জানান, ঈদের শেষ সময়ে যাতায়াত করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই আগাম ব্যবস্থা।

 

বাস চালকরা জানিয়েছেন, গতকাল থেকেই যাত্রীদের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যাতায়াত ব্যবস্থা এখনো স্বাভাবিক রয়েছে।

 

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, মহাসড়কের প্রতিটি মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল বাড়ানো হয়েছে।

 

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ থানার ইনচার্জ শ্রী কৃষ্ণপদ জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে এই রুটে ৮২ জন পুলিশ সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। কোথাও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সঠিক তদারকির ফলে এবার যাত্রীদের যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।