নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। মো.সাহাবুদ্দিন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার 'করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'—এই মূলমন্ত্র নিয়ে দেশ গঠনে নিয়োজিত।
রাষ্ট্রপতি বলেন ,দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। নারীর উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে প্রতিটি পরিবারকে 'ফ্যামিলি কার্ড' দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিয়ে কৃষি ও অর্থনৈতিক খাতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের আশ্বাস দেন তিনি। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির বৈশ্বিক প্রভাব নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাবেক মন্ত্রী ও অভিজ্ঞ হাফিজ উদ্দিন আহমদ গণতন্ত্র রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালের একদলীয় শাসন থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ের বর্ণনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ বিদায়ের চূড়ান্ত ধাপ। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনটি আমার দেখা ১০টি জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে।" বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষ ত্রয়োদশ সংসদের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত গণতন্ত্রের প্রতিফলন দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে বেগবান করাই এখন রাষ্ট্র ও জনগণের মূল লক্ষ্য।