নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভোটের রায়কে সম্মান জানাতে এবং সংবিধান সংস্কারের যেকোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে সংসদীয় প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধান সংশোধন বা নতুন করে শপথ গ্রহণের মতো বিষয়গুলো একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আলোচনা ও সংসদীয় অধিবেশনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "গণভোটের রায়কে কার্যকর করতে হলে আগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে। সংসদের ভেতরে আলোচনার মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।" তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে যদি নতুন করে শপথ গ্রহণের বিষয় আসে, তবে সেটিও একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমেই পরিচালিত হবে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি বিএনপির পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও এই সনদ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। যারা পূর্বে সমালোচনা করেছিলেন, তারাও নির্বাচনের পর এই সনদে স্বাক্ষর করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও এই সনদের প্রতিফলন ঘটবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কার্যকাল নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, সেই সময়টি ছিল অধ্যাদেশ জারির সময়কাল। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১০০টিরও বেশি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা বাধ্যতামূলক। বর্তমান সরকার সংবিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "যতটুকু বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, ততটুকুই বাস্তবায়ন করা হবে।"
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যের শেষে সকল রাজনৈতিক পক্ষকে সংসদে আসার আহ্বান জানান এবং সবার সম্মিলিত আলোচনার ভিত্তিতেই সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।