সারাদেশ

১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৫:৩৩, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

দেশের নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে আগামী ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই পাইলটিং প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত প্রত্যেক সুবিধাভোগী প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সভায় নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 

মন্ত্রী জানান, সরকারের উচ্চপর্যায়ের উপকমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের পাইলটিং কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন বিভাগের ১৪টি উপজেলাকে এই প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ১০ মার্চ এই ১৪টি উপজেলার প্রতিটি থেকে একটি করে ইউনিয়নের নির্দিষ্ট একটি ওয়ার্ডে একযোগে কার্ড বিতরণ শুরু হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

 

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির নারীদের সহায়তা করা। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডধারী নারীরা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি আর্থিক অনুদান পাবেন। এটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একটি অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার, যা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন।

 

নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, "একজন নারী স্বাবলম্বী হওয়া মানে একটি পুরো পরিবার স্বাবলম্বী হওয়া। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মও স্বাবলম্বী হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।" তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বৈষম্য করা হবে না। এটি একটি সম্পূর্ণ সর্বজনীন (ইউনিভার্সাল) উদ্যোগ।

 

সুবিধাভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করছে সরকার। মন্ত্রী জানান:

  • কোনো প্রকার ঘরে বসে তালিকা করা হবে না।
  • সরাসরি ‘ডোর টু ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাঠ পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
  • তালিকায় ভুলত্রুটি এড়াতে দুই স্তরের ‘চেকিং ও রি-চেকিং’ ব্যবস্থা থাকবে।
  • উপজেলা পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার নেতৃত্বে শক্তিশালী তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।

আগামী চার মাসের মধ্যে এই পাইলটিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এরপর ধাপে ধাপে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।