সারাদেশ

হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল, আজ শুনানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:০৫, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় বিষয়টি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই সাজা বৃদ্ধির আবেদন করা হলে বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আজ নির্ধারিত দিনে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করবেন।


গত বছরের ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে একটি অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও অন্যটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ মোট আটটি সুনির্দিষ্ট যুক্তিতে (গ্রাউন্ড) আমৃত্যু কারাদণ্ডের সেই সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য আপিল বিভাগে আবেদন জানিয়েছে।


২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দমনে পরিচালিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এই বিচার শুরু হয়। মামলার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো গত বছরের ১০ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠিত হয়।


শহীদ আবু সাঈদের পিতা, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এবং আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানসহ মোট ৫৪ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।


ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও তার দল। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. আমির হোসেন। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন।