সারাদেশ

৫ আগস্টের পরের মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৭:০২, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
photo

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর দায়েরকৃত মামলাগুলো পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই ঘোষণা দেন। বৈঠকে ৫ আগস্ট পরবর্তী মামলা যাচাই, বিডিআর বিদ্রোহের পুনঃতদন্ত এবং বিগত ১৫ বছরের অস্ত্রের লাইসেন্স পর্যালোচনাসহ বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ নানা পেশার মানুষের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে অনেকগুলোই সুবিধাবাদী মহলের স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতীয়মান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো নিরীহ মানুষ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়, সেজন্য পুলিশকে এসব মামলা পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদে (২০০৯-২০২৪) ইস্যু করা সকল অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই করা হবে। মন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এছাড়া বিগত সময়ে পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে স্থায়ী ঠিকানা জালিয়াতির অভিযোগগুলোও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশের পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে বেশ কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন:

  • লটারি প্রথা বাতিল: ওসি ও এসপি পদায়নে বিতর্কিত লটারি পদ্ধতি বন্ধ করে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।
  • হস্তক্ষেপ বন্ধ: পুলিশের কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। একইসাথে পুলিশের কোনো সদস্য মানুষকে হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • প্রটোকল নিয়ন্ত্রণ: এসপিরা এখন থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে কাউকে রাজনৈতিক প্রটোকল দিতে পারবেন না।
  • জনবল নিয়োগ: শূন্য থাকা ২,৭০১টি কনস্টেবল পদে দ্রুত নিয়োগ এবং ২০০৬ সালে চাকরি হারানো ৬৩০ জন পুলিশ সদস্যকে পুনর্বহাল করা হবে।

পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি কমাতে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে 'নিবন্ধিত প্রতিনিধি' বা ভেন্ডর নিয়োগের পরিকল্পনা করছে সরকার। এছাড়া 'মব ভায়োলেন্স' বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা (জিরো টলারেন্স) নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। মহাসড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের পরিবর্তে বৈধ পথে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

 

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনরায় তদন্তের ঘোষণা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।