সারাদেশ

কৃষ্ণসাগরে ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমানের পথ রোধ রুশ যুদ্ধবিমানের

আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় খুব কাছাকাছি উড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি; লন্ডনের অভিযোগ, বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে মস্কো
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:২৩, ২১ মে ২০২৬
photo

কামাল পাশা  

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক  

কৃষ্ণসাগরের আকাশে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়া ও ন্যাটো। আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত নজরদারি মিশনে থাকা একটি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) গোয়েন্দা বিমানের খুব কাছাকাছি চলে আসে দুটি রুশ যুদ্ধবিমান। যুক্তরাজ্য এই ঘটনাকে “বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়েছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে এপ্রিল মাসে কৃষ্ণসাগরের আন্তর্জাতিক আকাশসীমায়। RAF-এর RC-135W ‘রিভেট জয়েন্ট’ গোয়েন্দা বিমানটি তখন ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা মিশনের অংশ হিসেবে টহল দিচ্ছিল। বিমানটি নিরস্ত্র ছিল। 

এ সময় রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান—একটি Su-35 এবং একটি Su-27—ব্রিটিশ বিমানের খুব কাছ দিয়ে একাধিকবার উড়ে যায়। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের দাবি:

Su-35 যুদ্ধবিমানটি এতটাই কাছে চলে আসে যে RAF বিমানের জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায় এবং অটোপাইলট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।

Su-27 যুদ্ধবিমানটি ছয়বার দ্রুতগতিতে ব্রিটিশ বিমানের সামনে দিয়ে উড়ে যায় এবং এক পর্যায়ে মাত্র ছয় মিটার দূরত্বে চলে আসে। 

যুক্তরাজ্য বলছে, এ ধরনের আচরণ মাঝআকাশে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায় এবং সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র বিমানের বিরুদ্ধে এমন আগ্রাসী আচরণ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সামরিক উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ঘটনার পর লন্ডনে রুশ দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৃষ্ণসাগর এখন ন্যাটো ও রাশিয়ার অন্যতম উত্তেজনাপূর্ণ সামরিক অঞ্চল। ন্যাটোর নজরদারি বিমানগুলো নিয়মিতভাবে রুশ সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে, বিশেষ করে ক্রিমিয়া ও আশপাশের এলাকায়। অন্যদিকে মস্কো এসব টহলকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে। 

এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০২২ সালেও একই ধরনের এক ঘটনায় একটি রুশ Su-27 যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ RC-135W বিমানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাশিয়া সেটিকে “প্রযুক্তিগত ত্রুটি” বলে দাবি করেছিল। 

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কৃষ্ণসাগরে এই ধরনের ঘনিষ্ঠ সামরিক মুখোমুখি অবস্থান এখন কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের সামগ্রিক উত্তেজনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সামান্য ভুল হিসাবও বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সংকট ডেকে আনতে পারে।