সারাদেশ

র‍্যাবের নাম পরিবর্তনের চিন্তা করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৬:৩৫, ১৮ মে ২০২৬
photo

তিনি বলেন, অথরিটি থাকবে, রেস্পন্সিবিলিটি থাকবে, সাথে সাথে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি এবং অ্যাকাউন্টেবিলিটি নিশ্চিত করা হবে সেই একই আইনে। সেভাবেই আমরা আগামীতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব এবং জননিরাপত্তা, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হবে।


এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা জানি যে র‍্যাবের কিছু কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র‍্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে, যে প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সেটা পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি -সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিষ্ঠান হিসেবে। কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, কয়েকজন কর্মকর্তার অ্যাক্টিভিটিস পুরো প্রতিষ্ঠান দায়-দায়িত্ব নিতে পারে না। আমরা এখন যার যার নিজস্ব আইনে, সেই প্রতিষ্ঠানের আইনে, সেই সমস্ত অফিসারদের অ্যাকাউন্টেবল করার জন্য এবং বিচারের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য অলরেডি অনুশাসন দিয়েছি।


তিনি বলেন, যদি কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপথগামী হয় বা বিপদে যায়, তারা পার্সোনালি দায়ী; কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী না। আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি। ঠিক আমেরিকা যেই সময় র‍্যাবের উপরে স্যাংশন দিয়েছিল, সেই সময় র‍্যাব এমন কিছু কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল- রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই সময় ফ্যাসিবাদী সরকারের শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য, একদলীয় শাসন ব্যবস্থা এবং একদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য যে উগ্র বাসনা তাদের ছিল, সেটা কায়েমের জন্য এভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই কারণে র‍্যাবের উপরে যে স্যাংশনটা আমেরিকা দিয়েছে, সেটা এখনো বহাল। কিন্তু আমরা যদি এলিট ফোর্স হিসেবে একটা নতুন ফোর্স রিনেমড করি বা রেইজ করি, সেখানে হয়তো তারা বিষয়টা পুনর্বিবেচনা করবে। সেটা আশা করা যায়। তো এখন অনেক কিছু বাকি আছে, দেখা যাক।


র‍্যাবের জন্য একটা আইন ফ্রেম করার জন্য কমিটি করে দিয়েছি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই আইনটা আমি নিজে লুক-আফটার করব। সেই আইনটা আমার সামনে এখনো আসে নাই, আমি কিছু সময় দিয়েছি। সেখানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে।


বর্তমানে র‍্যাব যে আইনে পরিচালিত হচ্ছে, সেটা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের জানিয়ে তিনি বলেন, একটা প্রতিষ্ঠান এভাবে অ্যাডহক ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া সঠিক ছিল না। এখন আমরা সেটা আইন করব আলাদা এলিট ফোর্সের জন্য। সেখানে অথরিটি দেওয়া থাকবে, তাদের রেস্পন্সিবিলিটি ফিক্স করা থাকবে এবং সেই ক্ষেত্রে তাদের জবাবদিহিতা, অ্যাকাউন্টেবিলিটি এবং ট্রান্সপারেন্সিটাও নিশ্চিত হবে। সেই হিসেবে আইনটা আসবে। এখনও ডিটেইল বলার সময় আসে নাই।


র‍্যাব থাকবে না বিলুপ্ত করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রত্যাশা মানুষের, জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, সেজন্য একটা এলিট ফোর্স অবশ্যই দরকার হবে। তাদের যে ইকুইপমেন্টস, লজিস্টিকস, ট্রেনিং, ফ্যাসিলিটিস, অ্যাসেটস-সবকিছু সেখানে যাবে।