নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুতকরণ, চামড়া সংরক্ষণ এবং দ্রুত বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুরে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীদের নিয়ে আয়োজিত এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, প্রশিক্ষণে শেখানো নিয়ম মেনেই এবার কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে চামড়ার গুরুত্ব বিবেচনায় এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার ওপর জোর দেন তিনি। চামড়া সংরক্ষণের সুবিধার্থে ডিএনসিসি’র পক্ষ থেকে বিনামূল্যে লবণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক আরও বলেন, শুধু পেশাদার নয়, মৌসুমি শ্রমিকদেরও সঠিক নিয়মগুলো জানতে হবে। এতে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ করা সহজ হবে। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে দুর্গন্ধ ছড়াবে না। এছাড়া বর্জ্য নির্দিষ্ট ব্যাগে ভরে বাসার সামনে রাখলে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা তা দ্রুত সংগ্রহ করে নেবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার। বিপুল পরিমাণ মাংস ও চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে এই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি জুমার খুতবায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে ইমামদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মুফতি হাবিবুল্লাহ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী হালাল ও সহিহ পদ্ধতিতে পশু জবাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পরামর্শ দেন, জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে রক্ত সম্পূর্ণ বের হয়ে যায়। এরপর দ্রুত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধার সুযোগ পাবে না।
ডিএনসিসি প্রশাসক শহর পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “সিটি করপোরেশন আমাদের সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দ্রুততম সময়ে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে পারব।”
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ইমাম ও কসাইরা জানান, এই উদ্যোগের ফলে তারা কোরবানির সঠিক পদ্ধতি, চামড়া রক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারবেন।