নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, পূর্বের সব নির্দেশ বাতিল করে এখন থেকে স্কুল অ্যাসেম্বলি বা প্রাতঃকালীন প্রার্থনার সময় ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। এই নিয়ম সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা সব বিদ্যালয়ের জন্য প্রযোজ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, সরকারি স্কুলগুলোতে পাঠদান শুরুর আগে এই গান গাওয়ার নিয়ম চালু করা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি মন্তব্য করেন, "বিকৃত ইতিহাস পরিবর্তনের এটাই সঠিক সময়। কেন্দ্রের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার তা কার্যকর করতে দেয়নি।"
উল্লেখ্য, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি ভারতের গণপরিষদ এই গানের প্রথম দুটি স্তবককে জাতীয় গানের মর্যাদা দেয়।
স্কুলে নতুন নিয়ম চালুর পাশাপাশি রাজ্যে পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রকাশ্যে কোনো পশু জবাই করা যাবে না। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের ২০১৮ সালের একটি নির্দেশনা অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী: ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর বা মহিষ জবাইয়ের আগে অবশ্যই ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ বা উপযুক্ততার সনদ নিতে হবে।সনদবিহীন বা প্রকাশ্যে কোনো পশু জবাই করা আইনত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজ্যে এই জোড়া নতুন নির্দেশনা কার্যকর হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।