নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ডোনাল্ড ট্রাম্প সত্যিই কি ইরান যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার জন্য চীনের ওপর ভর করতে চাইছেন—এমন আলোচনা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে জোরালো। বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে ট্রাম্প কূটনৈতিকভাবে একটি “বের হওয়ার পথ” খুঁজছেন।
বিশেষ করে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠককে ঘিরে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ওয়াশিংটন চায় বেইজিং ইরানকে আলোচনায় ফেরাতে ভূমিকা রাখুক। কারণ চীন ইরানের বড় তেল ক্রেতা এবং তেহরানের ওপর তাদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
তবে বিষয়টি একমুখী নয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ থামাতে তাঁর চীনের সাহায্য “প্রয়োজন নেই” এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে।
অর্থাৎ, একদিকে কূটনৈতিকভাবে চীনের সহযোগিতা কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল দেখাতে না চেয়ে ট্রাম্প কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এখানে তিনটি বড় কারণ কাজ করছে—
১. অর্থনৈতিক চাপ: হরমুজ প্রণালির সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
২. রাজনৈতিক চাপ: জরিপ অনুযায়ী, অনেক মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধ সমর্থন করছেন না। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর যুদ্ধ শেষ করার চাপ বাড়ছে।
৩. চীনের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব: ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে চীন সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হতে পারে। তবে এর বিনিময়ে বেইজিং তাইওয়ান বা প্রযুক্তি নিষেধাজ্ঞার মতো ইস্যুতে ছাড় চাইতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
তাই সংক্ষেপে বলা যায়, ট্রাম্প প্রকাশ্যে চীনের ওপর নির্ভরশীলতা অস্বীকার করলেও বাস্তবে ইরান সংকট থেকে সম্মানজনকভাবে বের হওয়ার কূটনৈতিক পথ তৈরিতে বেইজিংকে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছেন।