নিজস্ব প্রতিবেদক
কামাল পাশা
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক
ইউরোপের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী হলো হাঙ্গেরি। দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর অরবান-এর যুগের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন পেতের মাজিয়ার।
শনিবার বুদাপেস্টে পার্লামেন্ট ভবনে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজারো সমর্থক জড়ো হন। কেন্দ্র-ডানপন্থী ও ইউরোপপন্থী দল টিসা পার্টির নেতা মাজিয়ার এপ্রিলের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। তাঁর দল ১৯৯ আসনের মধ্যে ১৪১টি আসন জিতে সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
শপথের পর দেওয়া ভাষণে মাজিয়ার বলেন, “হাঙ্গেরির মানুষ শুধু সরকার পরিবর্তন চায়নি, তারা পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছে।” তিনি দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং গণমাধ্যমে নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনেরও অঙ্গীকার করেন।
অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে সংঘাতে জড়াতে দেখা যায়। বিশেষ করে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ব্রাসেলসের সঙ্গে তার সরকারের টানাপোড়েন ছিল দীর্ঘদিনের। সমালোচকেরা অরবানের শাসনকে “ইলিবারেল গণতন্ত্র” হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
নতুন সরকারের প্রথম প্রতীকী পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল পার্লামেন্ট ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা পুনঃস্থাপন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইউরোপের মূলধারার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়ার একটি স্পষ্ট বার্তা।
৪৫ বছর বয়সী মাজিয়ার একসময় অরবানের দল ফিদেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তবে ২০২৪ সালে সরকারের সমালোচনা করে তিনি দল ছাড়েন এবং দ্রুত বিরোধী রাজনীতির কেন্দ্রীয় মুখে পরিণত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, মাজিয়ারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্থবির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আটকে থাকা তহবিল ছাড় করানো এবং অরবানের দীর্ঘদিনের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা।