সারাদেশ

গত ৪২ দিনে কোনো ক্রসফায়ার বা গুম হয়নি: জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:১৫, ১১ এপ্রিল ২০২৬
photo

দেশে মানবাধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৪২ দিনে দেশে কোনো ক্রসফায়ার বা গুমের ঘটনা ঘটেনি। অতীতে রাজনৈতিক নিপীড়নের যে তিক্ত অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের রয়েছে, সরকার তা থেকে বেরিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর।

 

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপনকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি আপত্তির জবাবে তিনি সরকারের এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার চাইলে প্রতিহিংসার পথে হাঁটতে পারত, কিন্তু জনস্বার্থ রক্ষায় সেই পথ পরিহার করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমরা চাই না আর কোনো মা তার সন্তানকে ক্রসফায়ারের নামে হারান কিংবা কেউ গুমের শিকার হন।" দেশে মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের গুরুতর অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

 

২০২৫ সালের মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমে যাতে কোনো শূন্যতা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল করা হয়েছে।

 

২০২৫ সালের অধ্যাদেশের ত্রুটিসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন ,তদন্ত প্রক্রিয়া ও সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব ,জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়ে অস্পষ্টতা ,কমিশন নিজেই কোনো পক্ষের হয়ে মামলা করার বিধান, যা নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

গুমকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে আসাদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে 'গুম কমিশন' সংক্রান্ত সংজ্ঞা ও দায়িত্ব নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েছে, যা প্রচলিত আইনের কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। তিনি মন্তব্য করেন, কোনো আইন যদি গোপন উদ্দেশ্য বা পক্ষপাতমূলকভাবে তৈরি করা হয়, তবে তা শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য।

 

আইনমন্ত্রী বলেন, একটি আইন সাধারণত দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর থাকার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়। তাই তড়িঘড়ি করে কোনো ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস না করে সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন জরুরি।

 

তিনি আরও জানান, বস্তি এলাকার বাসিন্দা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে আলোচনা করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবাধিকার আইন তৈরি করা হবে। দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় বাস্তব ভূমিকা রাখবে এমন একটি আইন প্রণয়নে তিনি সকল সংসদ সদস্যের সহযোগিতা কামনা করেন।