নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামিক ডেস্ক: দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত পরাজয়’ ঘোষণা করেছে ইরান। এই মহাবিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণটি এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটির মহান নেতা ও ইসলামী বিপ্লবের পথপ্রদর্শক আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের ৪০ দিন পূর্ণ হলো। বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই ঘোষণা প্রদান করে।
ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ এক বিবৃতিতে এই বিজয়কে ‘কৌশলগত সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মহান নেতা খামেনির শাহাদাত ইরানের রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং এটি দেশের স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করেছে। আরিফের মতে, এই ক্ষতি এখন একটি বিশাল মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হয়েছে, যা শাসনের নতুন এক আদর্শ সামনে এনেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে এর বিনিময়ে তিনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্ত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছিল, ওয়াশিংটন তা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ,স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ,ইরানের ওপর থেকে সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনী সরিয়ে নেওয়া।
সংবাদ প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে এক ‘অবৈধ যুদ্ধ’ শুরু করে। ওই দিন সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে খামেনির কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। পবিত্র রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় কোরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। এর পরপরই শুরু হয় ‘রমজান যুদ্ধ’, যা টানা ৪০ দিন চলার পর বুধবার ইরানের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শৈশব থেকেই ইসলামী শিক্ষা ও সাহিত্যের অনুরাগী ছিলেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় সম্মুখ সমরে থেকে তিনি তরুণ যোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইরান যখন দুই দফা বিদেশি আগ্রাসনের শিকার হয়, তখন তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর মাধ্যমে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেয়।
মোহাম্মদ রেজা আরিফ জোর দিয়ে বলেন, আজকের এই অটল স্থিতিশীলতা খামেনির চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠারই ফসল। যেখানে ক্ষমতার মূল ভিত্তি কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং জাতির ইচ্ছা ও ঐশ্বরিক কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।