সারাদেশ

পারমাণবিক নীতি পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্তে অটল ইরান

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৮:০৪, ১৮ মার্চ ২০২৬
photo

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তেহরান তাদের বর্তমান অবস্থান বজায় রাখার সম্ভাবনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ওপর। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের এই সংকটময় সময়ে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জল্পনার প্রেক্ষিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দুই দশকেরও বেশি সময় আগে একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন। সেই ডিক্রিতে ইসলামি বিধান অনুযায়ী পারমাণবিকসহ সকল প্রকার গণবিধ্বংসী অস্ত্রের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর সেই নীতি কতটুকু বহাল থাকবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

পশ্চিমী দেশগুলো দীর্ঘকাল ধরে ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ আনলেও, তেহরান সবসময়ই একে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক কর্মসূচি হিসেবে দাবি করে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন যে, ফতোয়া বা ধর্মীয় ডিক্রি মূলত প্রদানকারী ফকিহ বা আইনবিদের নিজস্ব ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বিচারবিভাগীয় বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও জনসমক্ষে প্রকাশ পায়নি।

 

বর্তমান সামরিক চাপ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদলের ফলে ইরান তাদের কৌশলগত নীতিগুলো পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছে। অনেকের আশঙ্কা, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে ইরান আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে তাদের পরমাণু সক্ষমতাকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারে। তবে আব্বাস আরাঘচির বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরান আপাতত তাদের পুরোনো ও প্রকাশ্য অবস্থানেই অনড় থাকতে চায়।

 

ইরানের ভবিষ্যৎ পরমাণু ভাবনার চূড়ান্ত রূপরেখা মূলত নতুন সর্বোচ্চ নেতার আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।