সারাদেশ

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৭:৪৫, ১৮ মার্চ ২০২৬
photo

ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের রেশ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে অবস্থিত নিজেদের সকল দূতাবাস ও কূটনৈতিক দপ্তরে জরুরি নিরাপত্তা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। গত মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক তারবার্তায় এই নির্দেশনা পাঠানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন।

 

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বিশেষ বার্তায় বিশ্বের প্রতিটি কূটনৈতিক পোস্টকে অবিলম্বে জরুরি কার্যক্রম কমিটি (EAC)ডাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিগুলো নিজ নিজ অঞ্চলে সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করবে এবং সে অনুযায়ী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাই করবে। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর একে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম হিসেবে দাবি করেছে, তবে প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিশ্বব্যাপী সব মিশনে এই ধরনের কঠোর বার্তা পাঠানো হলো।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থাপনাগুলো ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে।

 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী ইরাকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরাকের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে মোট ২৯২টি হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবে চলতি মাসে ড্রোন হামলায় রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ছাদের বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। ইসরাইয়েলে গত সপ্তাহান্তে মার্কিন কূটনীতিকদের আবাসন লক্ষ্য করে একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যদিও সেটির বিস্ফোরণ ঘটেনি।

 

সংঘাতের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি কানাডার টরন্টোয় মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে গোলাগুলি এবং নরওয়ের রাজধানী অসলোয় মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেশ কিছু দেশে মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারির পাশাপাশি কয়েকটি মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মার্কিন নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে, যা নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

মার্কিন প্রশাসন তাদের অভ্যন্তরীণ নথির গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও, বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচনা করছে সংশ্লিষ্ট মহল।