সারাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নতি স্বীকার করবে না যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০৮:১০, ১৬ মার্চ ২০২৬
photo

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সহায়তা পাঠানোর চাপ সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রতিটি অনুরোধ রক্ষা করা লন্ডনের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি মূলত ‘লেনদেননির্ভর’—এমন মন্তব্য করে ব্রিটিশ মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফাডেন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েনকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন।

 

সম্প্রতি ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন রাখতে যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সমুদ্রপথের সুবিধাভোগী দেশগুলো যদি সুরক্ষায় এগিয়ে না আসে, তবে তা ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। ট্রাম্পের এমন অবস্থানকে মূলত একটি ‘হুমকি’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, যেখানে তিনি সামরিক সহায়তার বিনিময়ে জোটের ভবিষ্যৎ সহযোগিতার শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন।

 

ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের শ্রম ও অবসরবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফাডেন জানান, ব্রিটিশ সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘বাগাড়ম্বর’পূর্ণ বক্তব্যের চেয়ে বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কাইনিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: "এটি অত্যন্ত লেনদেননির্ভর একটি প্রেসিডেন্সি এবং আমাদের কাজ হলো এই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যাওয়া। তবে মনে রাখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বন্ধুত্ব অত্যন্ত গভীর।"

 

যুক্তরাজ্য মনে করছে, ট্রাম্পের চাহিদা অনুযায়ী সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠালে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আরও চরম রূপ নিতে পারে। তাই সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণকারী ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছে দেশটি।

 

ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেয়, তবে ট্রাম্প এই জোটে মার্কিন সমর্থন কমিয়ে দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাকফাডেন জানান, এটি একান্তই প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, মিত্র হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সব অযৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া যুক্তরাজ্যের নীতি নয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের চাপের মুখে ড্রোন পাঠানোর এই কৌশলী সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন ও লন্ডনের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের এক নতুন পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।