সারাদেশ

নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার ঘোষণা দিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১২:২২, ১৬ মার্চ ২০২৬
photo

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করেছে।

 

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রোববার ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি এল। আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম ‘সেপাহ নিউজ’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে যে, নেতানিয়াহুর মতো "শিশু হত্যাকারী অপরাধী" যদি জীবিত থাকেন, তবে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বের করে হত্যার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা হবে।

 

বেশ কয়েকদিন ধরে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১২ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দেয়। ভিডিওতে তাঁর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাওয়ায় অনেকে একে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও বলে দাবি করছেন। তবে পরবর্তীতে জানানো হয়, লাইট ও ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের কারণে এমনটি মনে হতে পারে।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে হত্যার পরোক্ষ হুমকি দিয়েছিলেন। হিব্রু ভাষায় দেওয়া সেই ভাষণে তিনি ইরানি শাসনব্যবস্থা উৎখাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার দাবি করেন। আইআরজিসির বর্তমান কঠোর অবস্থানকে নেতানিয়াহুর সেই হুমকির পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডেস ওয়েনসসহ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, নেতানিয়াহুর দপ্তর কেন সন্দেহজনক ভিডিও প্রকাশ করে আবার ডিলিট করছে। এমনকি নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু গত ৯ মার্চের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষ্ক্রিয় থাকায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

 

এদিকে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর দপ্তর সেটি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তাঁর মৃত্যুর খবরগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহু নিজে সরাসরি ক্যামেরার সামনে এসে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেননি।