সারাদেশ

ইরানের শাসকদের হত্যা করা ‘অত্যন্ত সম্মানজনক’: ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ১১:৫৯, ১৪ মার্চ ২০২৬
photo

ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কর্মকর্তাদের হত্যা করাকে ‘অত্যন্ত সম্মানজনক’ বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিতর্কিত ও কঠোর মন্তব্য করেন।

 

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ওই বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সামরিক ও অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন দিক থেকে ইরানের সরকারকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের নৌ ও বিমান বাহিনীর সক্ষমতা এখন তলানিতে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিসহ সব সমরাস্ত্র শেষের পথে। এই প্রক্রিয়ায় দেশটির নেতারা একে একে পৃথিবী থেকে বিদায় নিচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্প আরও বলেন, "আমাদের কাছে অতুলনীয় সমরাস্ত্র এবং পর্যাপ্ত সময় রয়েছে। গত ৪৭ বছর ধরে যারা নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে আসছে, এখন তাদের হত্যা করা হচ্ছে। আর এটি অত্যন্ত সম্মানজনক একটি কাজ।"

 

উল্লেখ্য যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিনব্যাপী সংলাপ চলে। তবে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।

 

আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরদিনই অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে সমন্বয় করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং অন্তত ৪০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হন।

 

এই হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও বসে নেই। তারা ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশ— সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিভিন্ন স্থাপনায় দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।