সারাদেশ

উপসাগরীয় মিত্রদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ট্রাম্পের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ০২:০৫, ১৩ মার্চ ২০২৬
photo

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতি কার্যত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কৌশল দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের এই একমুখী অবস্থান দীর্ঘদিনের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা ওই অঞ্চলে মার্কিন বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

সম্প্রতি 'মিডল ইস্ট আই'-এ প্রকাশিত সোমায়া ঘানুশির এক নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ ঘনিষ্ঠ মহলের মাধ্যমে নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি আগে কখনো এতটা স্পষ্ট ছিল না। অভিযোগ উঠেছে যে, নেতানিয়াহু পরিকল্পিতভাবে মার্কিন সামরিক শক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছেন।

 

সৌদি আরব,সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলো ঐতিহাসিকভাবেই নিরাপত্তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক ও সামরিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছিল। তারা মনে করত, মার্কিন ঘাঁটিগুলো তাদের নিরাপত্তার গ্যারান্টি। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনায় এই ঘাঁটিগুলোই এখন তাদের জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি দ্বন্দ্বে এই দেশগুলো এখন সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের সাথে এই সংঘাত শুরু করার আগে ওয়াশিংটন তার উপসাগরীয় মিত্রদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা পরামর্শ করার প্রয়োজন বোধ করেনি। অথচ এসব দেশের শত শত কোটি ডলার ট্রাম্পের বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। উল্টো এখন এই দেশগুলোকেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে মার্কিন সমর্থক গোষ্ঠীগুলো।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল ও রাজনৈতিকভাবে খণ্ডিত করা, যা ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের কৌশলগত সুবিধার অংশ। তবে এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন উপলব্ধি করতে শুরু করেছে যে, মার্কিন সুরক্ষার যে প্রতিশ্রুতি তারা বিশ্বাস করেছিল, তা বাস্তবে একটি 'মরীচিকা' ছাড়া আর কিছুই নয়।

 

ইসরায়েলি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ওয়াশিংটন তার নির্ভরযোগ্য মিত্রদের বিপদে ফেলছে কি না এবং এই নীতি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থ রক্ষা করবে কি না—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।